রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে নতুন পারমাণবিক জ্বালানি লোডিং শুরু, বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে ঐতিহাসিক মাইলফলক অর্জন।
বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক অর্জিত হয়েছে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের (আরএনপিপি) প্রথম ইউনিটে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন পারমাণবিক জ্বালানি লোডিং শুরু হয়েছে, যা দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কমিশনিং কার্যক্রমের সূচনা নির্দেশ করে। একই সঙ্গে এটি দক্ষিণ এশিয়ায় প্রথম রপ্তানিমুখী ভিভিইআর-১২০০ ইউনিটের যাত্রাও শুরু করল।
জ্বালানি লোডিং অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রোসাটমের মহাপরিচালক আলেক্সেই লিখাচেভ এবং বাংলাদেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। তারা যৌথভাবে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের রিঅ্যাক্টরে নতুন পারমাণবিক জ্বালানি লোডিংয়ের প্রতীকী অনুমতি প্রদান করেন।
ভিডিও: নিউক্লিয়ার রিঅ্যাক্টর প্রেশার ভেসেল বা নিউক্লিয়ার রিঅ্যাক্টর বা পারমানবিক চুল্লি-তে নিউক্লিয়ার ফুয়েল অ্যাসেম্বলি বা পারমাণবিক জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম।
এই ধাপটি ইউনিটটির কমিশনিং প্রক্রিয়ার প্রথম পর্যায়। জ্বালানি লোডিং সম্পন্ন হওয়ার পর রিঅ্যাক্টরকে মিনিমাম কন্ট্রোলড লেভেল (এমসিএল)-এ নেওয়া হবে, যেখানে এটি স্থিতিশীল ও নিয়ন্ত্রিত শক্তিস্তরে পৌঁছাবে। এরপর ধাপে ধাপে রিঅ্যাক্টরের শক্তি বৃদ্ধি করা হবে এবং পরবর্তী পর্যায়ে পাওয়ার স্টার্ট-আপ ও জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হবে।
অনুষ্ঠানে আলেক্সেই লিখাচেভ বলেন, শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক শক্তির ব্যবহার মাধ্যমে বাংলাদেশ এখন সেই দেশগুলোর কাতারে যোগ দিল, যারা টেকসই উন্নয়নের নির্ভরযোগ্য উৎস হিসেবে পারমাণবিক শক্তি ব্যবহার করছে। তিনি বলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বাংলাদেশের জ্বালানি ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হয়ে উঠবে এবং বাংলাদেশ-রাশিয়া সহযোগিতার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে কাজ করবে।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, পারমাণবিক শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, শিল্পায়ন ত্বরান্বিতকরণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি রূপপুর প্রকল্পকে বাংলাদেশের বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি ও উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের সক্ষমতার প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেন।
পাবনার ঈশ্বরদীতে অবস্থিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র। রাশিয়ান নকশায় নির্মিত এই বিদ্যুৎকেন্দ্রে দুটি ভিভিইআর-১২০০ রিঅ্যাক্টর রয়েছে, যার মোট উৎপাদন সক্ষমতা ২,৪০০ মেগাওয়াট। দুটি ইউনিট পুরোপুরি চালু হলে এটি দেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ১০ শতাংশেরও বেশি সরবরাহ করবে।
২০১৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর স্বাক্ষরিত সাধারণ চুক্তির আওতায় রোসাটমের ইঞ্জিনিয়ারিং ডিভিশন রূপপুর এনপিপি প্রকল্প নির্মাণ করছে। রূপপুরে ব্যবহৃত জেনারেশন থ্রি প্লাস (Generation III+) ভিভিইআর-১২০০ প্রযুক্তি আধুনিক ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মানদণ্ড পূরণ করে। এই প্রযুক্তির রিঅ্যাক্টর ইতোমধ্যে রাশিয়া ও বেলারুশে সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে এবং একই প্রযুক্তিতে মিশর, হাঙ্গেরি, তুরস্ক ও চীনে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণাধীন রয়েছে। পাশাপাশি কাজাখস্তান প্রজাতন্ত্রে দুটি ভিভিইআর-১২০০ পাওয়ার ইউনিট নির্মাণের জন্য প্রকৌশলগত সমীক্ষা চলছে।
(ছবি ও ভিডিও: অ্যাটম মিডিয়া)
