প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করুন
কিছু লিখুন
প্রেরণ করুন
‘আইসব্রেকার অব নলেজ’ অভিযানে ২৩ দেশের শিক্ষার্থীদের উত্তর মেরু ভ্রমণ
১৪.০৮.২০২৬

১০ দিনের বৈজ্ঞানিক ও শিক্ষামূলক অভিযান শেষে মুরমানস্কে ফিরেছে পারমাণবিক আইসব্রেকার ‘৫০ লেট পবেদি’

রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি করপোরেশন রোসাটমের আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক ও শিক্ষামূলক প্রকল্প ‘আইসব্রেকার অব নলেজ’-এর সপ্তম আন্তর্জাতিক অভিযান সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। ১৩ আগস্ট পারমাণবিক আইসব্রেকার ‘৫০ লেট পবেদি’ মুরমানস্কে ফিরে আসে। ১০ দিনের এই অভিযানে রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চল এবং বিশ্বের ২২টি দেশের মোট ৬৮ জন স্কুলশিক্ষার্থী ও কলেজ শিক্ষার্থী অংশ নেয়।

মুরমানস্ক থেকে উত্তর মেরু ও ফ্রাঞ্জ জোসেফ ল্যান্ড হয়ে মুরমানস্ক পর্যন্ত এই অভিযানে অংশগ্রহণকারীরা সমুদ্রপথে উত্তর মেরু ভ্রমণের পাশাপাশি বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক ও শিক্ষামূলক কার্যক্রমে অংশ নেয়। এ বছরের অভিযানটি উত্তর মেরুতে কোনো পৃষ্ঠজাহাজের ২০০তম অভিযানের মাইলফলকও স্পর্শ করে।

অভিযানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল বাস্তব বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা। শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞানীদের সঙ্গে দুটি পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে একটি ছিল প্রত্যন্ত আর্কটিক অঞ্চল ও নর্দার্ন সি রুটে যোগাযোগ সহায়তার জন্য রেডিওসন্ড উৎক্ষেপণ। অন্য পরীক্ষায় ফ্রাঞ্জ জোসেফ ল্যান্ড এলাকায় পরিবেশ পর্যবেক্ষণের জন্য একটি পুনর্ব্যবহারযোগ্য স্ট্র্যাটোস্ফেরিক প্ল্যাটফর্ম উৎক্ষেপণ করা হয়। প্ল্যাটফর্মটি ১৫ কিলোমিটারের বেশি উচ্চতায় উঠে ১০০ কিলোমিটারের বেশি পথ অতিক্রম করে নির্ধারিত স্থানে সফলভাবে অবতরণ করে।

অভিযানে অংশগ্রহণকারীদের জন্য রোসাটম করপোরেট একাডেমির উদ্যোগে বক্তৃতা, কর্মশালা, আলোচনা ও বিজ্ঞানভিত্তিক বিভিন্ন কার্যক্রমের আয়োজন করা হয়। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা পারমাণবিক প্রযুক্তি, আর্কটিক গবেষণা এবং আধুনিক বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত উন্নয়ন সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা লাভের সুযোগ পায়।

এবারের অভিযানে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন মো. মালেকুল সালেহীন প্রত্যয়, রাজশাহী ক্যাডেট কলেজের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। আন্তর্জাতিক পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে বিজয়ী হওয়ার মাধ্যমে তিনি এই অভিযানে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত হন।

বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে প্রত্যয় রাশিয়ার মুরমানস্ক থেকে পারমাণবিক আইসব্রেকার ‘৫০ লেট পবেদি’-তে উত্তর মেরুমুখী ১০ দিনের এই বৈজ্ঞানিক ও শিক্ষামূলক অভিযানে অংশ নেন। অভিযানের মাধ্যমে তিনি বিভিন্ন দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বৈজ্ঞানিক কার্যক্রম, কর্মশালা ও শিক্ষামূলক আয়োজনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পান। তানজানিয়ার শিক্ষার্থী জাইলিন লেরাটো মাপুন্ডা প্রথমবারের মতো তানজানিয়ার কোনো শিক্ষার্থী হিসেবে উত্তর মেরুতে পৌঁছানোর অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।

‘আইসব্রেকার অব নলেজ’ প্রকল্পটি প্রাকৃতিক বিজ্ঞান ও পারমাণবিক শিল্পের প্রযুক্তির প্রতি তরুণদের আগ্রহ বাড়ানো, মেধাবী শিক্ষার্থীদের সহায়তা করা এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিভিত্তিক ক্যারিয়ার সম্পর্কে তাদের ধারণা গড়ে তোলার লক্ষ্যে পরিচালিত হয়। সাতটি মৌসুমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ৪৭০ জনের বেশি শিক্ষার্থী রোসাটমের আয়োজনে উত্তর মেরু অভিযানে অংশ নিয়েছে।

ছবি: অ‍্যাটম মিডিয়া