বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে পারমাণবিক জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি করপোরেশন রোসাটমের ইঞ্জিনিয়ারিং ডিভিশন অ্যাটমস্ট্রয়এক্সপোর্ট জেএসসি এ প্রকল্পের প্রধান ডিজাইনার ও প্রধান ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করছে।
গত ২৮ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম শুরু হয়, যা ইউনিটটির পাওয়ার স্টার্টআপ প্রস্তুতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। পর্যায়ক্রমে মোট ১৬৩টি ফুয়েল অ্যাসেম্বলি রিঅ্যাক্টর কোরে স্থাপন করা হয়েছে।
অ্যাটমস্ট্রয়এক্সপোর্ট জেএসসি-এর প্রতিনিধি জানান, “প্রাথমিক কোর লোডিং প্রোগ্রাম, প্রযুক্তিগত বিধিমালা এবং পারমাণবিক নিরাপত্তা মানদণ্ড কঠোরভাবে অনুসরণ করে এই কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে। এখন পরবর্তী ধাপে রিঅ্যাক্টরের উপরের অংশ স্থাপন এবং প্রয়োজনীয় ইন-কোর ইন্সট্রুমেন্টেশন সিস্টেম সংযুক্ত করা হবে।”
তিনি আরও বলেন, বিদ্যুৎ ইউনিটের বিভিন্ন প্রযুক্তিগত সিস্টেমের নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে শত শত পরীক্ষা পরিচালনা করা হবে। এরপর রিঅ্যাক্টরকে ধীরে ধীরে ন্যূনতম নিয়ন্ত্রিত শক্তি পর্যায়ে নেওয়া হবে, যা পরবর্তীতে পাওয়ার স্টার্টআপ এবং পরীক্ষামূলক বাণিজ্যিক পরিচালনার পথ প্রস্তুত করবে।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে রাশিয়ান ডিজাইনের দুটি ভিভিইআর-১২০০ রিঅ্যাক্টর স্থাপন করা হচ্ছে, যার মোট উৎপাদন ক্ষমতা হবে ২,৪০০ মেগাওয়াট। আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মানদণ্ড পূরণকারী জেনারেশন থ্রি-প্লাস প্রযুক্তির এই রিঅ্যাক্টর বর্তমানে রাশিয়া ও বেলারুশে সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে। একই প্রযুক্তিতে মিশর, হাঙ্গেরি, তুরস্ক ও চীনে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। পাশাপাশি কাজাখস্তান প্রজাতন্ত্রে দুটি ভিভিইআর-১২০০ পাওয়ার ইউনিট নির্মাণের জন্য প্রকৌশলগত সমীক্ষা চলছে।
(ছবি: অ্যাটম মিডিয়া)
