বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুরের প্রথম ইউনিটের রিঅ্যাক্টর ন্যূনতম নিয়ন্ত্রণযোগ্য ক্ষমতায় (মিনিমাম কন্ট্রোলেবল পাওয়ার লেভেল) পৌঁছেছে। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রোসাটমের তথ্য অনুযায়ী, এই পর্যায়ে রিঅ্যাক্টরের সক্রিয় অঞ্চলে প্রথমবারের মতো স্বয়ংসম্পূর্ণ ও নিয়ন্ত্রিত নিউক্লিয়ার ফিশন চেইন রিঅ্যাকশন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
রোসাটমের প্রকৌশল বিভাগ, প্রকল্পের পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান, নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং বৈজ্ঞানিক তত্ত্বাবধায়ক কুরচাটভ ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে নকশাগত শর্ত ও স্টার্টআপ কর্মসূচি অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে।
রোসাটমের মহাপরিচালক আলেক্সেই লিখাচভ বলেন, প্রথম ইউনিটের ন্যূনতম নিয়ন্ত্রণযোগ্য ক্ষমতায় পৌঁছানো প্রকল্প বাস্তবায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এই পর্যায়ের কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হলে ইউনিটটিকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরবর্তী ধাপের জন্য প্রস্তুত করা হবে এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশের জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডে যুক্ত করার প্রক্রিয়া এগিয়ে যাবে। তাঁর প্রত্যাশা, এ অগ্রগতি ২০২৬ সালের নভেম্বরের শেষ নাগাদ অর্জিত হতে পারে।
পরবর্তী পর্যায়ে রিঅ্যাক্টর ইউনিটের বিভিন্ন ক্ষমতার স্তরে পরীক্ষা পরিচালনা করা হবে। এসব পরীক্ষার মাধ্যমে ইউনিটটিকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরবর্তী পর্যায়ের জন্য প্রস্তুত করা হবে।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রাশিয়ার নকশায় নির্মিত হচ্ছে এবং এতে ভিভিইআর-১২০০ প্রযুক্তির দুটি ইউনিট থাকবে, যার মোট স্থাপিত উৎপাদনক্ষমতা ২,৪০০ মেগাওয়াট। রাজধানী ঢাকা থেকে প্রায় ১৬০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই প্রকল্প বাংলাদেশের জ্বালানি অবকাঠামো উন্নয়ন ও জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে চলছে। প্রথম ইউনিটের এই অগ্রগতি রুশ ও বাংলাদেশি বিশেষজ্ঞদের সমন্বিত প্রচেষ্টার প্রতিফলন।
(ছবি: অ্যাটম মিডিয়া)
