প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করুন
কিছু লিখুন
প্রেরণ করুন
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প এলাকায় জনসম্পৃক্ততা জোরদারে ‘উঠান বৈঠক’ আয়োজন
২৩.০৪.২০২৬

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পকে ঘিরে স্থানীয় জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধি ও সরাসরি মতবিনিময়ের লক্ষ্যে প্রকল্প সাইটের নিকটবর্তী চরসাহাপুরে একটি ‘উঠান বৈঠক’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন (বিএইসি)- এর উদ্যোগে এবং সর্বসাধারণ পারমাণবিক তথ্যকেন্দ্র (পিআইসি)- এর সহযোগিতায় আয়োজিত এ কর্মসূচিতে স্থানীয় জনগণ অংশগ্রহণ করেন। বৈঠকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিরাপত্তা, পরিবেশগত প্রভাব, প্রযুক্তিগত দিক এবং আর্থ-সামাজিক গুরুত্ব সম্পর্কে সহজ ভাষায় তথ্য উপস্থাপন করা হয় এবং অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ড. মোঃ কবীর হোসেন। তিনি বলেন, স্থানীয় জনগণের সম্পৃক্ততা একটি বড় জাতীয় প্রকল্পের সফলতার অন্যতম প্রধান শর্ত। তিনি গুজব ও যাচাইবিহীন তথ্য থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে সঠিক তথ্যের জন্য প্রকল্প কর্তৃপক্ষ, তথ্যকেন্দ্র, তথ‍্যকেন্দ্রের ফেসবুক পেইজ এবং অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজ অনুসরণের পরামর্শ দেন।

ড. মোঃ কবীর হোসেন প্রকল্পের শুরু থেকে এলাকাবাসীর সহযোগিতার কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন। এ সময় আরও বক্তব্য দেন সিআরএনপিপি, এনপিসিবিএল-এর প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা জনাব এস এম মাহমুদ আরাফাত।

অংশগ্রহণকারীরা এ আয়োজনকে স্বাগত জানান। স্থানীয় বাসিন্দা মো. শাহাবুদ্দিন সেন্টু সরদার বলেন, এ ধরনের আয়োজন ভুল ধারণা দূর করতে এবং প্রকল্পের নিরাপত্তা বিষয়ে আস্থা গড়ে তুলতে সহায়ক। অপর বাসিন্দা মো. গোলজার হোসেন বলেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কারণে এ অঞ্চলে অনেক উন্নয়ন হয়েছে এবং আজকের আয়োজন থেকে তিনি অনেক ভুল ধারণার সঠিক উত্তর পেয়েছেন।

উক্ত আয়োজনে আরও উপস্থিত ছিলেন মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আছমা বেগম, কমিশনিং অ্যান্ড এক্সটার্নাল ফ্যাসিলিটিজ বিভাগের প্রধান সাগর আলম, গণমাধ্যম ফোকাল পয়েন্ট সৈকত আহমেদ, জনসংযোগ কর্মকর্তা কাজী মোহাম্মদ ইকবাল হাসানী, পিআইসি -এর কমিউনিকেশন ম্যানেজার মোঃ আহসান হাবিব, এবং প্রজেক্ট ম্যানেজার মোঃ আশিক হায়দারে

উল্লেখ্য, ফুয়েল লোডিংয়ের জন্য কমিশনিং লাইসেন্স অর্জনের মাধ্যমে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট শিগগিরই চালু হওয়ার পথে। ফুয়েল লোডিং সম্পন্ন হওয়ার পর রিঅ্যাক্টরের পাওয়ার প্রায় ৩০–৩৫ শতাংশে পৌঁছালে জাতীয় গ্রিডে প্রথম বিদ্যুৎ সংযোগ সম্ভব হবে। ফুয়েল লোডিং শুরুর প্রায় ১০ মাস পর প্রথম ইউনিট পূর্ণ ক্ষমতায় জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করবে। একইভাবে প্রায় এক বছর পর দ্বিতীয় ইউনিট থেকেও জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ যুক্ত হবে।