সর্বসাধারণ পারমাণবিক তথ্য কেন্দ্র
সাইটটি বাংলাদেশের পারমাণবিক শিল্প, পারমাণবিক শক্তি এবং বিকিরণ সুরক্ষার সাধারণ নীতিগুলি, প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করার এবং সঠিক উত্তর পাওয়ার সুযোগের পাশাপাশি পাবনা জেলায় শিক্ষামূলক কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করার তথ্য সরবরাহ করে।
আপনি কি জানেন, একজন মানুষ তার সারা জীবনে গড়ে প্রায় ২,৩৫,০০০ কিলোওয়াট-ঘণ্টা (kWh) বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন?
এটি হিসাব করা হয়েছে গড় আয়ু ৭২.৬ বছর এবং বর্তমান বিদ্যুৎ ব্যবহারের মাত্রা ধরে।
সবচেয়ে মজার বিষয় হলো, একটি মুরগির ডিমের সমান আকারের ইউরেনিয়াম জ্বালানি একজন মানুষের সারা জীবনের প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য যথেষ্ট।
একই পরিমাণ শক্তি উৎপাদন করতে প্রায় ৮৮ টন কয়লা প্রয়োজন হবে।
(ছবি: কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা দ্বারা নির্মিত)
আপনি কি জানেন?
প্রতিটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র তার পুরো জীবনচক্রে গড়ে প্রায় ২,০০,০০০ কর্মসংস্থানের বছর (জব-ইয়ার্স)সৃষ্টি করে। এর ফলে প্রকৌশলী, প্রকৌশল টেকনিশিয়ান, নির্মাণকর্মী, গবেষকসহ অসংখ্য দক্ষ পেশাজীবীর কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়!
(ছবি কৃতজ্ঞতা: কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা)
আপনি কি জানেন, রোসাটম-এর তৈরি ভিভিইআর-১২০০ হলো ভিভিইআর-১০০০ রিয়্যাক্টরের একটি উন্নত সংস্করণ?
এই ৩য়+ জেনারেশন রিয়্যাক্টরে আধুনিক প্রকৌশল সমাধান ব্যবহার করা হয়েছে, যা নিরাপত্তা ও দক্ষতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করে। এটি প্রায় ১০০ বছর পর্যন্ত পরিচালিত হতে পারে, প্রায় ৯০% ক্ষমতা ব্যবহারের হার বজায় রাখতে পারে এবং ১৮ মাস পর্যন্ত রিফুয়েলিং ছাড়াই চলতে সক্ষম।
এই নকশাটি আরও দীর্ঘ সেবা জীবন, উচ্চতর বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা, এবং অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রদান করে। অন্যান্য ভিভিইআর রিয়্যাক্টরের মতোই এতে দুই-সার্কিটের স্টিম উৎপাদন ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়, যেখানে চাপযুক্ত সাধারণ পানি একই সঙ্গে কুল্যান্ট এবং নিউট্রন মডারেটর হিসেবে কাজ করে।
ছবি: কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা দ্বারা নির্মিত
আপনি কি জানেন, এসএমআর এর পূর্ণরূপ হলো স্মল মডুলার রিঅ্যাক্টর?
এসএমআর প্রচলিত বড় পারমাণবিক রিঅ্যাক্টরের তুলনায় ছোট, তাই এটি দ্রুত নির্মাণযোগ্য, সহজে স্থাপনযোগ্যএবং ব্যয়-সাশ্রয়ী। প্রতিটি ইউনিট থেকে সর্বোচ্চ ৩০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত পরিচ্ছন্ন, নিম্ন-কার্বন বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়।
মডুলার নকশার কারণে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ধাপে ধাপে নতুন ইউনিট যুক্ত করা যায়। এটি জাতীয় গ্রিডে সংযুক্ত হয়ে কাজ করতে পারে, আবার দূরবর্তী অফ-গ্রিড এলাকাতেও ব্যবহার করা যায়।
আকারে ছোট, কিন্তু সম্ভাবনা বিশাল!
(ছবি: কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা দ্বারা নির্মিত)
আপনি কি জানেন, বেরিলিয়াম একটি অনন্য উপাদান যার দ্বৈত বৈশিষ্ট্য রয়েছে?
সাধারণ ধাতুর মতো নয়, বেরিলিয়ামের পরমাণুগুলো ধাতব এবং সমযোজী উভয় ধরনের বন্ধন তৈরি করে, যা সাধারণত অধাতুর বৈশিষ্ট্য। এর ফলে এটি খুব শক্ত কিন্তু ভঙ্গুর, এমনকি কাঁচ কাটতেও সক্ষম!
আরও কিছু বৈশিষ্ট্য:
-১০০০°C তাপমাত্রাতেও হাইড্রোজেনের সাথে বিক্রিয়া করে না
-সহজেই হ্যালোজেন, সালফার ও কার্বনের সাথে যুক্ত হয়
-নাইট্রিক অ্যাসিড ছাড়া অন্যান্য খনিজ অ্যাসিডে দ্রবীভূত হয়
-দহনকালে প্রচুর তাপ উৎপন্ন করে (১৫,০০০ কিলোক্যালরি/কেজি), তাই এটি রকেট জ্বালানির উপাদান হিসেবে ব্যবহার করা যায়
এছাড়া, বেরিলিয়াম অক্সাইড অত্যন্ত উচ্চ তাপ-সহনশীল এবং উচ্চ তাপ পরিবাহী, যা এটিকে ভাটার আবরণ ও ধাতু গলানোর ক্রুসিবল তৈরিতে উপযোগী করে তোলে।
ছোট একটি উপাদান, কিন্তু অসাধারণ ক্ষমতা!
ছবি: কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা দ্বারা নির্মিত
